পোস্টগুলি

<> ইসলামী জ্ঞান লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কুরবানি

ছবি
আল্লাহকে খুশী করা এবং তাঁর নির্দেশ পালন করার উদ্দেশ্যে তাঁরই নামে নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট পশু যবেহ করাকে উযহীয়্যাহ বা কুরবানি বলে। কুরবানির ইতিবৃত্ত:  আল্লাহ পাক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আম্বিয়ায়ে কেরাম গনকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন, তাঁদের মধ্যে হযরত ইবরাহীম আ: এর পরীক্ষা উল্লেখযোগ্য ও চিরস্মরণীয়। তাঁর পরীক্ষাসমূহের মধ্যে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল আ: কে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানীর নির্দেশ দেয়াই ছিল সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় হযরত ইবরাহীম আ: , ইসমাইল আ: এবং হাজেরা আ: অর্থাৎ গোটা পরিবারটিই আল্লাহর নির্দেশকে যথাযথভাবে পালন করেছেন। আল্লাহর নির্দেশ পালনে তাঁদের জীবনের মায়া-মমতা আদৌ স্থান পায়নি। তাঁরা আল্লাহর অসাধারণ প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি এ কথা যথাযথভাবে প্রমাণ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বপালকের জন্যই। ’ (আনআম-162) তাই আল্লাহ তায়ালা তাঁ অন্তরের কুরবানি কবুল করে পুত্র ইসমাইল আ: এর জীবন উপহার দিয়ে পশু কুরবানির মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত এ সুন্নত জারি করে দিয়েছে...

গুনাহের ক্ষতিসমূহ

সঠিক ইলম থেকে বঞ্চিত হয়।  রিযিক কমে যায়।  আল্লাহ তায়ালার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।  ভাল ও নেককার লোকদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।  অধিকাংশ কাজে মুশকিলে পড়তে হয়।  আত্মার পরিচ্ছন্নতা দূর হয়ে ময়লা জমে যায়।  অন্তরে এবং শরীরে বিভিন্ন সময় দুর্বলতা সৃষ্টি হয়।  ইবাদত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।  বয়স মে যায়।  আল্লাহ তায়লার নিকট অপদস্ত হয়ে যাওয়া।  গুনাহর দরুন অন্য মানুষের কষ্ট হয় এবং মানুষ তার উপর লানত করে।  জ্ঞান-বুদ্ধি কমে যায়।  রাসূল সা: এর পক্ষ থেকে তার উপর লানত হয়।  ফেরেশতাদ্বয় তার জন্য দুয়া ছেড়ে দেয়।  ফসলাদি কমে যায়।  লজ্জা শরম কমে যায়।  আল্লাহ তায়লার বড়ত্ব ও মহত্ব অন্তর থেকে চলে যায়।  নিয়ামতসমূহ দিন দিন কমে যায়।  বালা মুসীবত একের পর এক আসতেই  থাকে।  তার উপর শয়তান নির্ধারিত হয়ে যায়।  দিল সর্বদা পেরেশান থাকে।  মৃত্যুর সময় মুখ দিয়ে কালেমা বের হয় না।  আল্লাহ তায়ালার রহমত থেকে নৈরাশ হয়ে যাওয়া এবং এ কারণে তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে থাকে।  ( বেহেশতী জেওর, প্রথম খন্ড, পৃ...

অযুভঙ্গের কারণসমূহ

অযুভঙ্গের কারণ ছয়টি, যথা- ১। পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বাহির হওয়া। ২। রক্ত, পূঁজ বের হয়ে স্থান হতে গড়িয়ে পড়া। ৩। মুখ ভরে বমি হওয়া। ( অল্প বমি অযুভঙ্গের কারণ নয়। আর বেশী অর্থ এই পরিমাণ যা মুখের ভিতর ধদরে রাখা সম্ভব নয়। ৪। পূর্ণ শিথিল শরীরে ঘুমিয়ে পড়া। যেমন চিত হয়ে, কাত হয়ে, এক নিতম্বের উপর বসে এবং কোন কিছুতে এমনভাবে হেলান দিয়ে ঘোমানো যে, তা সরালে পড়ে যাবে। ৫। বেহুঁশ হওয়া, পাগল হওয়া এবং মাতাল হওয়া। ৬। নামাজের ভিতর শব্দ করিয়া হাসা।

কোরবানীর জরুরী মাসআলা

কোরবানীর গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সমূহ: মিনহাজ উদ্দীন ১। নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ব্যতীত ১০,১১ ও ১২ ই জিলহজ্জ এই তিন দিনের মধ্যে যাহার ঘরে সাড়ে ৭ তোলা সোনা, বা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা অথবা উহার সমপরিমাণ মালামাল মওজুদ থাকে তবে তাহার উপর কোরনী করা ওয়াজিব। ২। ১০ ই জিলহজ্জ হইতে ১২ ই জিলহজ্জের সূযাস্ত পর্যন্ত কোরবানী করা দুরুস্ত আছে। তবে প্রথম দিন কোরবানী করাই উত্তম। রাতে কোরবানী করা মাকরুহ। ৩। কোরবানীর পশু নিজ হাতে জবাই করা উত্তম। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলিয়া জবাই করিতে হইবে, তবে দোয়া পড়া মুস্তাহাব। নাম বলা জরুরী নয়। ৪। উট, গরু, মহিষ, ছাগল, দুম্বা ও ভেড়া কোরবানী করা দুরুস্ত আছে। উটের বয়স ৫ বছর, গরু ও মহিষ ২ বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ১ বছর হইতে হইবে। দাঁতাল হওয়া শর্ত নয়। ৫। উট, গরু, মহিষ ৭ জন পর্যন্ত শরীক হইয়া কোরবানী করিতে পারিবেন। তবে প্রত্যেকেরেই নিয়ত কোরবানীর হইতে হইবে। ৭ জনে ১ জনও যদি গোস্ত খাওয়ার নিয়তে কোরবানী করেন তবে কাহারও  কোরবানী দোরস্ত হইবেনা।  শরীকানা কোরবানীর গোস্ত সমভাবে ওজন করিয়া বন্টন করিতে হইবে। কোরবানীর গোস্তের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিছকিনদের দেওয়া মুস্তাহাব। ৬। কো...

যে সকল শিশুরা দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় কথা বলেছে।

চারজন শিশু দুগ্ধ পোষ্য অবস্থায় কথা বলেছে তাদের সংখ্যা চারজন। (১) যে বাচ্চাটি জুরায়েজের সতীত্বের পক্ষে স্বাক্ষ দিয়েছে। ঘটনা এইযে, জনৈক মহিলার গর্ভ থেকে জারজ সন্তান জন্ম নিলে সে মহিলাটি জুরায়েজের দিকে ইঙ্গিত করে। তখন বাচ্চাটি বলে উঠল-আমার পিতা অমুক রাখাল। (২) যে বাচ্চা হযরত ইউসুফ (আঃ ) এর পক্ষে সততার স্বাক্ষ দিয়ে তাঁকে জুলাইখার অপবাদ থেকে নিষ্কৃতি দেয়। (৩) ফেরাউনের মেয়ের চাকরানীর ছেলে, যে, ফেরাউনের মেয়েকে কুফরী থেকে ভয় দেখায়। (৪) হযরত ঈসা (আঃ)।                              ( হায়াতুল হায়ওয়ান ) 

কবিতাঃ সবি তোমার দান

ছবি
মিনহাজ উদ্দীন সবি তোমার দান কার হুকুমে সৃষ্টি সবি তামাম মাখলুকাত, রাতের চাদর উন্মুক্ত করে হই আবার প্রভাত। কার হুকুমে পাখপাখালি গেয়ে বেড়ায় গান, সুনতে লাগে কত মধুর সুধাঅফুরান। কার হুকুমে সূর্য উঠে কার হুকুমে ডুবে, কার হুকুমে ঝড় বৃষ্টি বিজলি চমক মারে। কার হুকুমে নদ নদীতে কল কল তান, কার হুকুমে গাছের ডালে পাখপাখালির গান। কার হুকুমে নদীর বুকে নৌকা চলে ভেসে, মাঝি মাল্লা মিলে মিসে মাছ ধরে হেসে। কার হুকুমে সাগর বুকে ঢেউয়ের হুলি খেলা, কার হুকুমে নদীর বুকে ডিঙ্গি নায়ের চলি । কার হুকুমে রাতের আধার এতো কেন কাল, ঝিঝির পোকার গুণগুণ শব্দ সুনতে লাগে ভাল। কার হুকুমে সূর্যের আলো এমন দৃপ্তিময়, প্রভু তোমার নিয়ামতে শির নত হয়। কার হুকুমে আকাশে মিটি মিটি তারার খেলা, পাখিরা সব আহার নিয়ে ফিরে সন্ধা বেলা। কার হুকুমে ধরাধামে চলছে অবিরাম, এ সব প্রভু আর কার নই সবি তোমার দান।

কোরবানী এবং সদকার মধ্যে পার্থক্য

হযরত ইবরাহীম আ: এর ঘটনা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, এখানে মূল উদ্দেশ্য জানের নজরানা পেশ করা। এ দ্বারা মানুষের মধ্যে প্রাণ উৎসর্গের উদ্দম সৃষ্টি হয়। আর এটিই এ আমলের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য। সদকার মাধ্যমে তা অর্জন করা আদৌ কি সম্ভব? নিশ্চয় না। কারণ, কোরবানী হয় প্রাণের বিনিময়ে আর সদকা হয় মালের বিনিময়ে। কোরবানীর জন্য নির্দিষ্ট দিন রয়েছে। আর এই দিনটিকে বলা হয় ঈদুল আযহা। পক্ষান্তরে সদকার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই, যখন ইচ্ছা তখন সদকা দেওয়া যায়। কোরবানী ও সদকার মাঝে এটিও অন্যতম একটি পার্থক্য। হযরত আম্বিয়া আ: এবং সকল উম্মতের ঐক্যমত্যে এ আমলটি শরীঅত সিদ্ধ। বনী ইসরাঈলে সকল নবীগণের উপর এ আমলটি আবশ্যক ছিল। এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামগণ ঐক্যমত আছেন। ইমাম শাফিঈ রহ: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ: এবং ইমাম আবূ ইউসুফ রহ: এর মতে কোরবানী সুন্নাত। তবে ইমাম আজম রহ: এর মতে তা ওয়াজিব। এটি হল তার হুকুমগত মতানৈক্য। তবে কোরবানী শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। এটি শরীয়ত বহির্ভূত কাজ হলে হাদীস শরীফে কেন এর গুনাগুণ বর্ণনা করা হল? হযরত সাহাবায়ে কিরাম রা: বলেন, রাসূল সা: আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন কোরবানীর পশু ...

কোরবানীর তাৎপর্য

ছবি
পশু উৎসর্গ করা হবে এক আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে, যার কোন শরিক নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদত করার জন্য। যেমন আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,  وما خلقت ا لجن و ا لا نس الا ليعبدون অর্থ: ‘ আমি জিন ও মানুষকে এজন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা শুধু আমার ইবাদত করবে। আল্লাহ তায়ালা্ এবাদতের জন্য মানব জাতিকে সৃষ্টি করলেন। ইবাদত বলে- যে সকল কথা ও কাজ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, হোক সে কাজ প্রকাশ্য বা গোপন। আর ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তাঁর উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা। এ কাজটি তিনি শুধু তাঁর উদ্দেশ্যে করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআন শরীফের সূরা আনআমের 162-163 নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, বল, আমার সালাত, আমার কোরবানী, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম। আল্লামা ইবনে কাসীর রহ: বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নির্দেশ দিয়েছেন, যে সকল মুশরিক আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবাই করে তাদের যেন জানিয়ে দেয়া হয়, আমরা তাদের বিরোধী। সালাত, কোরবানী শুধু তাঁর নামেই হ...

আল্রাহর একত্ববাদ ও তার প্রতি নির্ভরতা

সকল প্রশাংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমান ও যমিন উভয়েরই পরিচালক, যিনি গৌরব ও শক্তি-সামর্থের অদ্বিতীয়, যিনি কোন খুঁটি ছাড়া আসমানকে শূন্যে রেখেছেন এবং তাতে মানুষের জীবিকা রেখে দিয়েছেন, যিনি আত্ম-অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিমানদের চক্ষু উপাদান ও উপকরণ থেকে তাদের সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, যিনি তাদের চিন্তাধারা চতুর্দিকের সৃষ্টি থেকে তাঁর দিকে নিবদ্ধ রেখেছেন, যিনি তাদের বিশ্বাসকে তাঁরই দিকে উন্নত করেছেন। সুতরাং তাঁর দিকে উন্নত করেছেন। সুতরাং তাঁর উপাসনা ব্যতিত তারা অন্যের উপাসানা করে না। কেননা তারা অবগত আছে যে, তিনি অদ্বিতীয়, একক এবং অভাবমুক্ত। তারা প্রকৃত ভাবে বিশ্বাস করে যে, সৃষ্টিার সকলশ্রেণী তাদেরই স্বীয় স্রষ্টার দাস মাত্র; সুতরাং তারা তাদের নিকট জীবিকা অনুসন্ধান করে না। কেননা এমন কোন প্রাণী নেই যে, যার সৃষ্টিকর্তা আ্ল্লাহ নহেন। যখন তারা সাম্যক ভাবে উপলব্ধি করে যে, তিনিই তাঁর দাসগণের জীবিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন, তখন তারা তারই প্রতি নির্ভর করে চলে, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং আল্লাহ উত্তম নির্ভযোগ্য সত্তা অতঃপর আল্লাহর প্রিয় বান্দা হযরত মোহাম্মদ সা: এর উপর দরূদ ও সালা...

কোরবানীর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, কোরবানীর সূচনা।

ছবি
 আস্সালামু আলাইকুম। আজ আমি আপনার কোরবানীর বিষয়ে টিউন করবো। কোরবানীর দিনটিকে আরবীতে বলা হয় يو الا ضحية   . আর اضحية     শব্দটি একবচন, বহুবচনে اضاحي – আভিধানিক অর্থ-   (1)কানযুদ্দাকায়েকের প্রণেতা বর্ণনা করেন, الا ضحية ما يضحا اي يذبح . অর্থাৎ কোনো কিছু জবাই করা। (2)। ফিকহুল ইসলামীর প্রণেতার মতে, ঈদুল আযহার দিনে যা জবাই করা হয়। পরিভাষায়ঃ ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় জিলহজ্জ মাসের নির্ধারিত দিন সমূহের  যে কোন দিনে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে চতুষ্পদ প্রাণী জবাই কারাকে কোরবানী বলে।   কোরবানীর সূচনাঃ ইতিহাস ও জীবনীমূলক কিতাবাদি থেকে জানা যায় যে, পৃথিবীতে এমন কোন জাতি ছিল না, যারা স্বীয় মাজহাব অনুসারে কোরবানী করত না। কোরবানীর এ ধারা হযরত আদম আ: এর সন্তান হাবিল কাবিলের মধ্যে বিবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে, হযরত আদম আ: তাদেরকে এখলাছের সঙ্গে কোরবানী করার নির্দেশ প্রদান করে বললেন, তোমাদের যার কোরবানী কবুল হবে তার সঙ্গেই বিবাহ দিব। তখনকার যুগে কোরবানী কবুল হওয়ার আলামত ছিল, যে কোরবানীটি কবুল হতো তাকে আসমান থেকে একটি আগুন এসে জ্বালিয়ে দি...

কুরবানী: চেতনা ও তাৎপর্য।

ছবি
  হাফেজ মিনহাজ উদ্দীন আস্সালামু আলাইকুম। আশার করি সকলেই আল্লাহর রহমতের ভালো ভাবে দিন গুজরান করছেন। বন্ধুরা আজকে আমি ‘কুরবানী: চেতনা ও তাৎপর্য’ বিষয়ে লিখবো আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে পড়ার আগে প্রথমেই আমাদের জানা উচিত কুরবানী কি?  ‘কুরবানী’ একটি আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ ত্যাগ করা, উৎসর্গ , বিসর্জন নৈকট্যলাভ ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায়  যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ থেকে বারো তারিখ পর্যন্ত সময়ের পরিসরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু পশু জবাইকে কুরবানী বলা হয়। আর এ উপলক্ষে পালিত উৎসবকেই আমরা বলি ঈদুল-আযহা বা কুরবানীর ঈদ।  বন্ধুরা পবিত্র ঈদ ও কুরবানী সম্পর্কে প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেন,  ما عمل اُد مي من عمل يو ا نحر احب الي الله من اهراق الد   কুরবানীর ঈদের দিবসে আল্লাহ তাআলার কাছে মানব সন্তানের সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো পশু জবাই । মনে রেখ, কিয়ামত দিবসে কুরবানীর পশুটি তার শিং, লোম এবং হাড় সমেত উপস্থিত হবে এবং কুরবানীর রক্ত মাটি ষ্পর্শ করার পূর্বেই তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়ে যাবে। সুতরাং তোমরা তৃপ্ত মনে কুরবানী কর। একজন কল্যাণকামী বিশ্বাসী...

আশারায়ে মুবাশশারা ( সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবা)

অবতরনিকা: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মুসলিমমাত্রই জানে ও মানে যে, পার্থিব জগতের কর্মফলের উপর নিভর করে পরকালের শান্তি বা বেহেশত ও শাস্তি বা দোযখ। কারা জান্নাতি হবে আর কারা জাহান্নামি হবে তাদের কর্মপদ্ধতি ও লক্ষণ পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে জানা যায়। তবে রাসূল সা: এর সাহাবিদের মধ্যে যারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নবীজি সা: এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামের জন্য নিজের জানমাল উৎসর্গ করতেও কুন্ঠিত হন নি তাদের অনেকেই তিনি জান্নাতি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ শ্রেণীর সাহাবাদের সত্যতা ও নিষ্ঠার জন্য নবী করীম সা: তাদের প্রতি একান্ত সন্তুষ্ট হয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আশারায়ে মুবাশশারাঃ আশারায়ে মুবাশশারার শাব্দিক অর্থ হলো শুভ সংবাদ প্রাপ্ত দশজন। ইসলামী পরিভাষায় যে দশজন সাহাবি সম্পর্কে রাসূল সা: তাদের জীবদ্দশায় দুনিয়াতেই জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেছেন, তাদেরকে  “ আশারায়ে মুবাশশারা” বলা হয়। আবু মনসুর বাগদাদী বলেছেন, ‘ সমস্ত উম্মতের মধ্যে সবোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হলেন পর পর চার জন খলিফা। এরপর অবশিষ্ট ছয় জন। ‘ হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ: বলেছেন, “ দশজন সাহাবী জান্নাতি হওয়ার সুসংবা...

ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও আমাদের করণীয়

ছবি
    মিনহাজ উদ্দীন: ইসলাম সে তো পরশমানিক, তারে কে পেছেছে খুঁজি, পরশে তাহার সোনা হলো যারা, তাদেরই মোরা বুঝ।  সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! উল্লেখিত বিষয়ে আলোকপাত করার পূর্বে আমাদের জানতে হবে জঙ্গিবাদের পরিচয় সম্পর্কে। জঙ্গিবাদের ব্যাখ্যা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, জঙ্গি, জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদী শব্দগুলো  (Militant, Mililancy) শব্দগুলোর অনুবাদ। উর্দূ ও ফারসী ভাষায় জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, লড়াই ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি এ শব্দগুলো আমাদের মাঝে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।  শাব্দিক অর্থে যোদ্ধা, সৈনিক বা যুদ্ধে ব্যবহৃত বস্তু বুঝাতে এ শব্দগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে। বর্তমানে জঙ্গিবাদ বুঝানো হয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্রসহ বে-আইনীভাবে নিরপরাধ অসহায় অযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইত্যাদি অপরাধে জড়িত সম্প্রদায়কে। আর এদের মতবাদকেই বলা হয় জঙ্গিবাদ। যার পরিভাষা হলো সন্ত্রাস।  ইসলামে জঙ্গিবাদ এ বিষয়ে কথা বলতে হলে সর্বপ্রথমেই বলতে হবে ইসলাম জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে সমর্থন করেনা। কারণ ইসলামের মূল বক্তব্য হলো বিশ্ব মানবতার কল্যাণ সাধন ও মানব সমাজের সকল শ্...

আহলুস সুন্নাত কারা? তাদের আকিদাসমূহ

ছবি
অবতারনিকাঃ মহানবী সা: এর ইন্তিকালের পর ইসলামের ওপর অন্ধকারের ঘনঘটা নেমে এসেছিল। ঠিক এমনি মুহূর্তে উদ্ভব ঘটে ভ্রান্ত মতবাদ খারেজী, শিয়া, ও মুতাযিলা সম্প্রদায়ের। বিরাজমান এ পরিস্থিতিতে হিজরী তৃতীয় শতাব্দীতে আব্বাসীয় খলিফা মুতাওয়াক্কিলের আমলে ইমাম আবুল হাসান আল আশয়ারীর ধর্ম দর্শনের ওপর ভিত্তি করে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাত প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাত আল্লাহপ্রদত্ত ও রাসূল সাঃ প্রদর্শিত আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নিচে বিস্তারিত আলোকপার করা হলো। আহলুস সুন্নাত এর আভিধানিক অর্থঃ  اهل   শব্দটি  একবচন, বহুবচনে   اهلون ; এর আভিধানিক অর্থ হলো-               ১।  الاقارب               ২।  العشيرة              ৩।  তথা সাথী। ৪।  অধিবাসী। ৫। অধিকারী। ৬। সদস্য। ا لسنة  এর আভিধানিক অর্থঃ                   ১।   ال...

হজ্জের ফরয ও ওয়াজিবসমূহ

ছবি
হজ্জের ফরয তিনটি। যথা- 1. ইহরাম বাধাঃ হজ্জ বা ওমরার নিয়তে হাজীগণের সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করে নির্দিষ্ট মীকাত অতিক্রম এবং তালবিয়া পাঠ করতঃ কতিপয় নিষিদ্ধ কার্যাবলি হতে বিরত থাকার নাম ইহরাম। 2. আরাফায় অবস্থানঃ যিলহজ্জ মাসের নবম তারিখে সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে 10 তারিখ সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মাঝে যে কোনো সময় কিছুক্ষণের জন্য আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ফরয। 3. তাওয়াফে যেয়ারতঃ জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করার পর কুরবানির দিনগুলোর যে কোনো একদিন মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করা ফরয। হজ্জের ওয়াজিবসমূহঃ হজ্জের ওয়াজিব পাঁচটি। যথা- 1. মুযদালিফায় অবস্থান করাঃ আরাফার ময়দান হতে সূর্যাস্থের সাথে সাথে স্থানত্যাগ করে মুযদালিফায় যাওয়া। সেখানে রাতে অবস্থান করা। 2. সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী ( দৌড়ানো) করাঃ সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাত বার দৌড়ানো ওয়াজিব। 3. কঙ্কর নিক্ষেপঃ মিনায় অবস্থিত তিনটি জামারায় যিলহজ্জের 10, 11, 12 তারিখে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে সর্বমোট 49 টি কঙ্কর (পাথর) নিক্ষেপ করা। 4. হলক বা কসরঃ কুরবানি করার পর ইহরাম ভঙ্গের উদ্দেশ্যে হাজীর মাথা মুণ্ডন করা ...

হজ্জ ফরয হওয়ার সময়কাল

ছবি
হজ্জ ফরয হওয়ার সময়কালের ব্যাপরে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ আছে। যেমন- 1. ইমামুল হারামাইন, ইবনুল জুযী (রহঃ) ও জমহুর ওলামার মতে, হজ্জ নবম হিজরীতে ফরয করা হয়েছে। কেননা মহান আল্লাহর বাণী - ولله علي الناس حج ا لبيث من ا سثطا ع ا ليه سبيلا এই আয়াত দ্বারা হজ্জ ফরয ঘোষনা দেয়া হয়। আর আয়াতটি নাযিল হয় নবম হিজরীতে। 2. আল্লামা রাফেয়ী ও ইবনে রাফায়া (রহ) এর মতে, হজ্জ ষষ্ঠ হিজরীতে ফরয হয়। 3. আল্লামা ওয়াকেদী রহ: বলেন হজ্জ পঞ্চম হিজরীতে ফরয করা হয়েছে। কেননা হযরত দিমাম ইবনে সালাবা রা: পঞ্চম হিজরীতে মদীনায় এসে হজ্জের কথা বলেছেন। সিদ্ধান্তঃ নবম হিজরীর শেষদিকে হজ্জ ফরয করা হয়। কেননা পবিত্র কুরআনের আয়াত-ولله علي الناس حج ا لبيث من ا سثطا ع ا ليه سبيلا  অবতীর্ণ হয় নবম হিজরীরশেষের দিকে। সে বছর রসূল সাঃ হযরত আবু বকর রাঃ কে আমিরুল হজ্জ মনোনীত করে হজ্জব্রত পালনের জন্য প্রেরণ করেন। এবং পরবর্তী দশম হিজরীতে তিনি হজ্জ আদায় করেন।

যাকাত সম্পর্কে হাদিস

হাদীস প্রসঙ্গঃ আলোচ্য হাদীসটি রাসূল সাঃ কর্তৃক মুয়ায ইবনে জাবাল রাঃ কে ইয়ামেনের গভর্নর হিসেবে প্রেরণের প্রাক্কালে যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা কায়েমের যে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তারই বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়েছে। হাদীসের অনুবাদঃ  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ হযরত মুয়ায ইবনে জাবালকে গভর্নর হিসেবে ইয়ামেনে প্রের‌ণ করলেন। এ সময় রাসূল সাঃ তাঁকে বললেন, তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ, যারা আহলে কিতাব। প্রথমত তুমি তাদেরকে এ কথার সাক্ষ্য দিতে আহবার করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ তথা উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাঃ আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তারা যদি এ কথার আনুগত্য করে, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে- আল্লাহ তায়ালা দিবারাতে তাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করে দিয়েছেন। তারা যদি এ কথারও আনুগত্য করে তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে- আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর যাকাত ফরয করে দিয়েছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং গরীবদের মাঝে বণ্টন করা হবে। তারা যদি এ কথারও আনুগত্য করে, তবে সাবধান! তুমি তাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে এবং মযলুমের ফরিয়াদ থেকে বেঁচে থাকবে। ক...

দিনের প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানানো

সকাল বেলা রাস্তায় চলাচল করলে অনেক সময় দেখা যায় যে, রিক্সা, সিএনজি চালক বা দোকানদারগণ দিনের প্রথম উপার্জন হাতে পাওয়ার পর তাতে চুমো দেয়; গাড়ির স্টিয়ারিং, হাতল বা কোন অংশে ছোঁয়ানোর পরে বুকে ও চোখে লাগায়। অনেককে কপালে ঠেকাতেও দেখা যায়। তেমনি কোন কোন ব্যবসায়ীও দিনের প্রথম উপার্জনকে এভাবে ভক্তি জানিয়ো থাকে। নিজের কষ্টে অর্জিত উপার্জনের উপর মায়া থাকা স্বাভাবিক। ‘দ্বীনে ফিতরাত’ ইসলামে এ স্বাভাবিক আকর্ষণ দোষণীয় নয়; কিন্তু উপরোক্ত ছোঁয়াছুঁয়ি ও কপালে ঠেকানোর মতো ভক্তিমূলক আচরণ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানালে পরবর্তী উপার্জনের পথ সুগম হবে- এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব আচরণের সবচেয়ে নিন্দিত দিকটা হল উপার্জনের মাধ্যমকে অর্থাৎ গাড়ি, পণ্য বা ব্যবসা- প্রতিষ্ঠানকে উপার্জনদাতা মনে করা। এমনকি কারও কারও কথাবর্তা থেকে তো পৌত্তলিকতারও আভাস পাওয়া যায়। বাস্তব কথা এই যে, এ মাধ্যমগুলো উপলক্ষ মাত্র। তাই সবকিছু ঠিক থাকার পরও সবার উপার্জন এবং সব সব সময়ের উপার্জন সমান হয় না। উপার্জন ও রিযিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। তিনি কখন কাকে কীভাবে রিযিক দেবেন এবং কোন উপায়ে দেবেন তা একমাত...